কঙ্ক ঘোষ দস্তিদার : কলকাতা, ২৫ আগস্ট, ২০২৬। দুর্গাপুজো মানেই বাঙ্গালীর আবেগ ও ঐতিহ্য। উৎসবের দিন গোনা ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে। কেনাকাটা, আড্ডা আর খাওয়া-দাওয়ার জন্য দক্ষিণ কলকাতার অভিজাত সাউথ সিটি মল সবসময়ই মানুষের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে থাকে।
তবে এবারের দুর্গাপুজোয় এক সম্পূর্ণ নতুন ও ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সূচনা এই শপিং মলে। শুধু সাজসজ্জা বা থিম ইনস্টলেশনে আর সীমাবদ্ধ থাকছে না সাউথ সিটি।
শহরের ইতিহাসে এই প্রথমবার কোনও শপিং মলের ভেতরে সনাতনী হিন্দু রীতিনীতি মেনে পূর্ণাঙ্গ দুর্গাপুজোর আয়োজন করা হচ্ছে। ফলে কেনাকাটা কিংবা বিনোদনের পাশাপাশি এবার সাউথ সিটি হয়ে উঠবে এক অনন্য ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক মিলনক্ষেত্র।
শিল্পসজ্জা থেকে শাস্ত্রীয় আচার প্রতি বছর মলের নীচতলার কেন্দ্রে চমৎকার দুর্গাপুজোর ইনস্টলেশন তৈরি করা হলেও, সেগুলি ছিল মূলত প্রদর্শনীর জন্য। এবার সেই ধারণার আমূল পরিবর্তন ঘটিয়ে দেবীর ঘট স্থাপন থেকে শুরু করে মহালয়ার পর বোধন, কলাবউ স্নান, সপ্তমী-অষ্টমীর অঞ্জলি, নবমীর পূজার্চনা এবং দশমীর সিঁদুরখেলা— সবটাই সম্পন্ন হবে নিখুঁত শাস্ত্রীয় আচার মেনে।
অর্থাৎ, দর্শনার্থীরা মলে এসে সরাসরি পুজোর প্রতিটি আচার-অনুষ্ঠানের অংশ হতে পারবেন।
বর্তমানে মল পরিচালনার দায়িত্বে থাকা আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘ব্ল্যাকস্টোন’ (Blackstone)-এর অভিনব উদ্যোগেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
থিমে আধুনিকতা, প্রতিমায় সাবেকিয়ানা থিমের নাম ‘যাত্রা’:
বিশিষ্ট শিল্পী শুভঙ্কর দত্তর ভাবনায় মণ্ডপে ফুটে উঠবে বাংলার প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী ‘হাট’ থেকে আজকের আধুনিক ‘শপিং মল’-এ পৌঁছে যাওয়ার বিবর্তনের গল্প।
নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ জোর: মলের ভেতরে দর্শনার্থীদের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে ইঞ্জিনিয়ারদের সঙ্গে পরামর্শ করে সম্পূর্ণ নিরাপদ ও দৃঢ় কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে।
সাবেক প্রতিমা: দেবীর প্রতিমা গড়ার দায়িত্বে রয়েছেন প্রখ্যাত মৃৎশিল্পী সনাতন পাল, যাঁর হাতের নিপুণ ছোঁয়ায় প্রাণ পাবেন উমা।
লক্ষ্য কোনো প্রতিযোগিতা নয়, শুধু আনন্দ ভাগ করে নেওয়া। সাউথ সিটি মলের সেন্টার ডিরেক্টর দীপ বিশ্বাস জানান, শহরের অন্য কোনো পুজোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করা তাঁদের লক্ষ্য নয়।
বরং যাঁরা সাউথ সিটিতে আসবেন, তাঁরা যেন একই ছাদের তলায় কেনাকাটা, খাওয়াদাওয়া, আড্ডা এবং খাঁটি উৎসবের আমেজ— সবকিছুর স্বাদ একসঙ্গে উপভোগ করতে পারেন, সেটাই এই আয়োজনের মূল সার্থকতা।
তাই এবারের শারদোৎসবে সাউথ সিটিতে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে, শুধু কেনাকাটা বা ছবি তোলাতেই সীমাবদ্ধ থাকবেন না। সময় মিলিয়ে পৌঁছে যেতে পারেন অষ্টমীর অঞ্জলিতে কিংবা দশমীর সিঁদুরখেলায়।
এবার সাউথ সিটি শুধু শপিং মল নয়, হয়ে উঠছে শহরের পুজো মানচিত্রে এক নতুন ও ব্যতিক্রমী ঠিকানা!
ছবি – প্রতীকী।
