সংসদের অধিবেশন শেষ করেনি মোদী সরকার! কেন এখনও ‘জীবিত’ বাদল অধিবেশন…? 

কঙ্ক ঘোষ দস্তিদার : নিউ দিল্লি, ২৪ আগস্ট, ২০২৬। আসন সংখ্যা ৫০% বাড়িয়ে দক্ষিণ ভারতকে কব্জা করার নতুন মাস্টারপ্ল্যান?

কাঁপছে দিল্লি!  সংসদ মূলতবি হলেও কেন সমাপ্তি ঘোষণা নয়?  ডিলিমিটেশন ও আসন সংখ্যা ৫০% বৃদ্ধির ছক নিয়ে দিল্লির অলিন্দে তীব্র জল্পনা!

 

১. ১০ দিন পার, তাও কাটেনি নীরবতা:

গত ১৩ আগস্ট লোকসভা ও রাজ্যসভা— সংসদের উভয় কক্ষই অনির্দিষ্টকালের জন্য মূলতবি করা হয়েছে ।

তারপর প্রায় ১০ দিন কেটে গেলেও এখনও পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে বাদল অধিবেশনের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি বা অবসানের (Prorogation) প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়নি !

সরকারের এই অস্বাভাবিক নীরবতা ঘিরেই এখন দিল্লির রাজনৈতিক অলিন্দে জোর জল্পনা !

বিরোধী শিবির থেকে শুরু করে রাজনৈতিক বিশ্লেষক অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, কেন এখনও অধিবেশনের সমাপ্তি ঘোষণা করা হল না?

নেপথ্যে কি শুধুই প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, নাকি সরকারের কোনও বিশেষ রাজনৈতিক পরিকল্পনা রয়েছে?

২. স্বাভাবিক নিয়মের নজিরবিহীন ব্যতিক্রম:

৩. সংসদীয় রীতি অনুযায়ী সাধারণত তিন থেকে চার দিনের মধ্যেই রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অধিবেশনের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে দুটি ঘোষণাই একই দিনে হয়ে থাকে।

 

৪. চলতি বছরের বাজেট অধিবেশন ১৮ এপ্রিল শেষ হওয়ার মাত্র দুদিনের মাথায়, অর্থাৎ ২০ এপ্রিল রাষ্ট্রপতির তরফে তার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। সেই তুলনায় এবারের এই দীর্ঘ অপেক্ষা সবার কাছেই অত্যন্ত অস্বাভাবিক এবং রহস্যজনক ঠেকছে !

 

৫. আইনি ফাঁক এবং ‘জীবিত’ অধিবেশন:

সংসদীয় নিয়ম অনুযায়ী, কোনও অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য মূলতবি হয়ে গেলেও তা আইনিভাবে শেষ হয় না।

যতক্ষণ না রাষ্ট্রপতি সরকারের সুপারিশ মেনে প্রজ্ঞাপন জারি করছেন, ততক্ষণ সেই অধিবেশন কার্যত ‘জীবিতই’ থাকে।

অর্থাৎ, প্রয়োজন হলে সরকার নতুন করে বিশেষ অধিবেশন ডাকার আইনি ঝামেলায় না গিয়ে, হুট করে এই একই বাদল অধিবেশন পুনরায় ডেকে বসিয়ে দিতে পারে !

সরকারের এই কৌশলী পদক্ষেপের পেছনেই লুকিয়ে রয়েছে আসল রহস্য !

 

৬. ডিলিমিটেশন ও নারী সংরক্ষণের গোপন ছক?

বিরোধী শিবিরের একাংশ এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দাবি, সরকার হয়তো অত্যন্ত জরুরি ও বিতর্কিত কোনও বিল দ্রুত পাস করানোর জন্য এই পথ খোলা রাখছে।

রাজনৈতিক মহলে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় উঠে এসেছে আসন পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশন (Delimitation) সংক্রান্ত বিল এবং তার সঙ্গে যুক্ত নারী সংরক্ষণ বিল কার্যকর করার বিষয়টি।

বাজেট অধিবেশনের সময় এই বিল নিয়ে সরকার প্রয়োজনীয় সমর্থন জোগাড় করতে পারেনি বলেই তা আটকে গিয়েছিল বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা।

 

৭. দক্ষিণ ভারতের উদ্বেগ ও আসন বৃদ্ধির নতুন রূপরেখা:

বিশেষ করে দক্ষিণ ভারতের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল দীর্ঘদিন ধরেই আশঙ্কা প্রকাশ করে আসছে, ভবিষ্যতে জনসংখ্যার ভিত্তিতে লোকসভা কেন্দ্রগুলির পুনর্বিন্যাস হলে তাদের রাজ্যগুলির প্রতিনিধিত্ব কমে যেতে পারে।

ফলে লোকসভায় তাদের রাজনৈতিক শক্তিও হ্রাস পেতে পারে। এই উদ্বেগ দূর করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার একটি নতুন রূপরেখা তৈরি করেছে বলেও আলোচনা চলছে।

সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী, রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল নির্বিশেষে দেশের সব জায়গাতেই লোকসভা আসনের সংখ্যা প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করার প্রস্তাব নিয়ে ভাবনা চলছে।

ফলে জনসংখ্যা-ভিত্তিক পুনর্বিন্যাস হলেও দক্ষিণের রাজ্যগুলির প্রতিনিধিত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার আশঙ্কা কিছুটা প্রশমিত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

 

৮. অমিত শাহের বৈঠক ও কংগ্রেসের বিস্ফোরক প্রশ্ন:

এই বিতর্ক আরও জোরদার ! সম্প্রতি দক্ষিণ আঞ্চলিক পরিষদের বৈঠকের পর। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সভাপতিত্বে আয়োজিত ওই বৈঠকে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী সি. জোসেফ বিজয় আসন পুনর্বিন্যাসের বিষয়টি উত্থাপন করেন।

তারপর থেকেই ডিলিমিটেশন এবং নারী সংরক্ষণ বিল নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হতে পারে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল আরও বেড়ে যায় !

এদিকে অধিবেশনের সমাপ্তি ঘোষণা না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসও। দলের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলে বলেন, লোকসভা অনির্দিষ্টকালের জন্য মূলতবি হওয়ার পর সাধারণত দুই থেকে চার দিনের মধ্যেই সেশন সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

অথচ এবার দশ দিন কেটে গেলেও এখনও পর্যন্ত সেই ঘোষণা হয়নি, যা স্বাভাবিক নয় বলেই তাঁর দাবি।

 

৯. সব নজর এখন রাষ্ট্রপতির বিজ্ঞপ্তির দিকে:

সংসদের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘিরে তৈরি হওয়া এই নীরবতা এখন রাজনৈতিক অন্দরে নতুন কৌতূহল ও জল্পনার জন্ম দিয়েছে।

সরকার আদৌ কোনও বিশেষ আইন দ্রুত পাশ করানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে, নাকি এটি শুধুই প্রশাসনিক বিলম্ব তার উত্তর এখনও স্পষ্ট নয়। তবে একটি বিষয় নিশ্চিত, রাষ্ট্রপতির আনুষ্ঠানিক সমাপ্তির ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত বাদল অধিবেশন আইনগতভাবে শেষ হয়নি।

সেই কারণেই আগামী দিনে সংসদে কী ঘটতে চলেছে, সেদিকেই এখন নজর দেশের রাজনৈতিক মহলের।

 

 

More From Author

ইস্টবেঙ্গলের কষ্টার্জিত জয়…।

সাউথ সিটিতে উমার আবাহন…! 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *