ডিজিটাল অ্যারেস্ট জালিয়াতি…! 

কঙ্ক ঘোষ দস্তিদার : কলকাতা, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬। জাতীয় স্তরে চোখ কপালে তোলার মতো সাইবার ক্রাইম !

দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ৩১,০০০ কোটি টাকার এক আন্তর্জাতিক ডিজিটাল স্ক্যামের পর্দাফাঁস করল ভারতের সংসদীয় প্যানেল ও ইডি (ED) !

সাধারণ কোনো ওটিপি চুরি নয়, স্ক্যামাররা সিবিআই বা ট্রাই সেজে ভিডিও কলে ভিকটিমদের ঘরেই দিনের পর দিন ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ বা ভার্চুয়াল বন্দি করে রাখত !

সংসদীয় প্যানেলের অ্যাকশন এবং সরকারের ওপর চাপ:

অনেকেই ইডি (ED) চিনলেও ‘সংসদীয় প্যানেল’ বা Parliamentary Standing Committee-র ক্ষমতা সম্পর্কে জানেননা।

এটি লোকসভা ও রাজ্যসভার সাংসদদের নিয়ে গঠিত দেশের সর্বোচ্চ নজরদারি কমিটি।

এই প্যানেল ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে এই ৩১,০০০ কোটি টাকার মেগা জালিয়াতির চূড়ান্ত রিপোর্ট এবং ব্যাংকগুলোর গাফিলতির খতিয়ান পেশ করে।

রিজার্ভ ব্যাংক এবং অর্থ মন্ত্রককে তীব্র ভর্ৎসনা করে প্যানেল নির্দেশ দেয়, কেওয়াইসি (KYC) যাচাই না করে দেদার ফেক ‘মুল অ্যাকাউন্ট’ খোলার মারাত্মক গ্যাপ তৈরি হয়।

কমিটির মতে, এই অবস্থা অবিলম্বে আইনি কঠোরতায় বন্ধ করতে হবে।

এই রিপোর্টের পরেই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন এবং দেশজুড়ে মাঠে নামে ইডির স্পেশাল ক্র্যাকডাউন স্কোয়াড।

ভুক্তভোগীদের প্রোফাইল ও বয়স (Age Group) :

তদন্তে জানা গেছে, এই চক্রটির মূল সফট টার্গেট ছিল সমাজের ধনী এবং উচ্চপদস্থ অবসরপ্রাপ্ত প্রবীণ নাগরিকরা, যাঁদের জমানো ফান্ডের পরিমাণ কোটি কোটি টাকা।

দেশজুড়ে ৩৩টি বড় কমপ্লেন এবং ১৬৩টি এফআইআর-এর সূত্র ধরে জানা গেছে আক্রান্তদের মধ্যে সকলেই প্রবীণ।

টার্গেটেড বয়স: মূলত ৫৫ থেকে ৭৫ বছর বয়সী প্রবীণ নাগরিকরা ছিলেন এই চক্রের মূল শিকার। বেঙ্গালুরুর এক নামী আইটি (IT) কোম্পানির ৫৭ বছর বয়সী এক শীর্ষ এক্সিকিউটিভ (Senior Executive)। পুনে এবং মুম্বইয়ের একাধিক অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক অফিসার ও কর্পোরেট ডিরেক্টর।

গোয়া ও রাজস্থানের কিছু সম্পন্ন ব্যবসায়ী। তাঁদের আধার কার্ড বেআইনি ড্রাগ চেইনের সাথে যুক্ত বলে ভয় দেখানো হয়েছিল।

 

অপারেশন ট্রেইল:

মাস্টারমাইন্ডের নাম ও পরিচয় !

ভারতের আইসি (I4C) সাইবার টিম এবং ইডির যৌথ ক্র্যাকডাউনে পুনে, মুম্বই এবং গোয়ায় ঝটিকা অভিযান চালিয়ে এই আন্তর্জাতিক চক্রের মোট ৫ জন হাই-প্রোফাইল হর্তাকর্তাকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছে ইডি।

ক্র্যাকডাউনের গোপন সূত্র:

আই৪সি (I4C) ও ইডি (ED) অ্যাকশন কোড !

এই মেগা স্ক্যামের রহস্য উদঘাটনে মাঠে নেমেছে দেশের সর্বোচ্চ শক্তি।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনে থাকা ‘ইন্ডিয়ান সাইবার ক্রাইম কোঅর্ডিনেশন সেন্টার’ বা [I4C] তাদের স্পেশাল উইন্ডো কোড [I4C-17]-এর অত্যাধুনিক টেকনিক্যাল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে জালিয়াতির মূল আইপি (IP), ফেক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও ক্রিপ্টো কোড ডিকোড করেছে।

এই বিশেষ ডিজিটাল ট্রেইল ব্যবহার করেই ইডি এবং সাইবার স্কোয়াড আন্তর্জাতিক চক্রটিকে গোয়া ও মুম্বই থেকে হাতেনাতে ধরেছে।

মূল চক্রীরা :

:১. ফাহিম মইন হুসেন সায়েদ (Fahim Moin Hussain Sayed)

২. নইম মুইন সাইয়্যদ (Naim Mueen Sayyed)

৩. ভূষণ সূর্যকান্ত মোয়ে (Bhushan Suryakant Moye) — চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট (CA)

৪. বিলাস নারায়ণ পাওয়ার (Vilas Narayan Pawar)

৫. শৈলেশ দাগদু (Shailesh Dagdu)

কিভাবে হল গ্রেপ্তার ?

তদন্তে জানা যায়, এই দুষ্কৃতীরা ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের সাধারণ ড্রাইভার ও দিনমজুরদের নামে ফেক কোম্পানি খুলে রেখেছিল !

তাদের নামেই অ্যাকাউন্ট খুলে মোট ২৭,৮৫০ কোটি টাকার ব্যাংকিং ট্রানজ্যাকশন ক্রিপ্টো এবং ফরেক্সের মাধ্যমে দুবাই, কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ডে পাচার করা হয়েছিলল।

মুম্বই ও গোয়ার বিশেষ ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলোর রিয়েল-টাইম ট্রেইল ফ্রিজ করে হানা দিয়ে ৫ পাণ্ডাকেই আপাতত কড়া ইডি হেফাজতে পাঠিয়েছে আদালত

More From Author

Walmart Vriddhi MSME Connect Kolkata 2026 Strengthens Market Access and Export Readiness for West Bengal Entrepreneurs…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *