তদন্তের দাবী, রিঙ্কু চট্টোপাধ্যায় সিংয়ের…।

কঙ্ক ঘোষ দস্তিদার : নিউ দিল্লি: ৬ আগস্ট, ২০২৬। দিল্লির যন্তর মন্তরে আয়োজিত একটি বিক্ষোভ কর্মসূচিকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন এক আইনি বিতর্ক ! ২০ জুলাই অনুষ্ঠিত ওই প্রতিবাদ সভার রেশ এখনও কাটেনি। বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই আন্দোলনকে ঘিরে অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ এবং আইনি টানাপোড়েন আরও গভীর ! এবার সেই কর্মসূচির উদ্যোক্তাদের বিরুদ্ধে পকসো আইন এবং নতুন ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় জিরো এফআইআর দায়েরের দাবিতে পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ। এই ঘটনাকে ঘিরে আইনজীবী মহল থেকে রাজনৈতিক অঙ্গন সর্বত্রই তীব্র আলোচনা।

অভিযোগ দায়ের করেছেন শিলিগুড়ির বিশিষ্ট আইনজীবী রিঙ্কি চট্টোপাধ্যায় সিং। তাঁর অভিযোগ, দিল্লির যন্তর মন্তরে সিজেপির ব্যানারে আয়োজিত ওই প্রতিবাদ কর্মসূচির অন্যতম আয়োজক সৌরভ দাস, অভিজিৎ দিপকে এবং তাঁদের সহযোগীদের বিরুদ্ধেই আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। তাঁর দাবি, আন্দোলনের নামে এমন কিছু ঘটনা ঘটেছে যা শুধুমাত্র আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নই নয়, শিশুদের সুরক্ষা, রাষ্ট্রীয় মর্যাদা এবং জনস্বার্থের সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িয়ে রয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০ জুলাইয়ের বিক্ষোভ চলাকালীন পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ধস্তাধস্তির ফলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে যায়। অভিযোগ অনুযায়ী, পরে লাঠিচার্জের ঘটনাও ঘটে। একই সঙ্গে আইনজীবীর দাবি, ওই আন্দোলনের মঞ্চ থেকে দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং ভারতের সার্বভৌম মর্যাদাকে কেন্দ্র করে অত্যন্ত আপত্তিকর ও অসংবেদনশীল মন্তব্য করা হয়। তাঁর বক্তব্য, গণতান্ত্রিক দেশে প্রতিবাদের অধিকার অবশ্যই আছে, কিন্তু সেই অধিকার কখনও এমনভাবে ব্যবহার করা উচিত নয় যাতে আইন, শৃঙ্খলা বা রাষ্ট্রের মর্যাদা প্রশ্নের মুখে পড়ে !

এই গোটা বিতর্কের সবচেয়ে স্পর্শকাতর দিক একটি ১২ বছরের নাবালিকাকে ঘিরে ! অভিযোগে বলা হয়েছে, এত সংবেদনশীল এবং রাজনৈতিকভাবে উত্তপ্ত একটি আন্দোলনের মধ্যে কীভাবে এবং কেন একজন ১২ বছরের শিশুকে নিয়ে আসা হল, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও মেলেনি। আইনজীবী রিঙ্কি চট্টোপাধ্যায় সিংয়ের দাবি, আইন অনুযায়ী এই বয়সের শিশু বিশেষ সুরক্ষা ও যত্নের অধিকারী। তাই এমন পরিস্থিতিতে তাকে নিয়ে আসা নিরাপত্তার পক্ষে ঝুঁকিপূর্ণ এবং আইনগতভাবেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

লিখিত অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, আন্দোলনের পরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে একটি লাইভ ভিডিওতে বক্তব্য রাখেন। সেখানে তিনি জানান, তরুণ প্রজন্মের আবেগের কথা বিবেচনা করে তিনি তাঁদের মন্তব্যকে ক্ষমা করে দিয়েছেন এবং তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগতভাবে কোনও আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে চান না। কিন্তু অভিযোগকারীর দাবি, আন্দোলনের উদ্যোক্তারা আরও একটি ভিডিও প্রকাশ করেন, সেখানে দাবি করা হয় পুলিশ নাকি ওই ১২ বছরের নাবালিকার উপর লাঠিচার্জ করেছে এবং তাঁর সঙ্গে অশালীন আচরণ করেছে !

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্কের সূত্রপাত। অভিযোগকারী আইনজীবীর দাবি, রাজনৈতিক সহানুভূতি আদায় এবং পুলিশ ও প্রশাসনের ভাবমূর্তি নষ্ট করার উদ্দেশ্যেই ওই নাবালিকাকে সামনে আনা হয়। তাঁর অভিযোগ, একটি শিশুকে রাজনৈতিক বার্তা পৌঁছে দেওয়ার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা শিশু সুরক্ষার মূল নীতির পরিপন্থী। সেই কারণেই তিনি পকসো আইনের ১৩, ১৪ এবং ১৫ নম্বর ধারা, পাশাপাশি ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৫৩ ধারায় জিরো এফআইআর রুজু করার দাবি জানিয়েছেন এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের আবেদন তাঁর।

শুধু নাবালিকাকে কেন্দ্র করেই নয়, এই আন্দোলনের আর্থিক দিক নিয়েও প্রশ্ন অভিযোগকারীর। তাঁর বক্তব্য, এত বড় আকারের একটি কর্মসূচি পরিচালনা করতে বিপুল অর্থের প্রয়োজন। সেই অর্থ কোথা থেকে এল জোগানদারই বা কারা, তাও তদন্ত করে দেখা উচিৎ। এই প্রসঙ্গে তিনি আরও অভিযোগ করেন, দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারকে অস্বস্তিতে ফেলতে একটি বৃহত্তর ‘ডিপ স্টেট’ ষড়যন্ত্র সক্রিয় থাকতে পারে। তবে এই অভিযোগের সমর্থনে আদালতে এখনও কোনও বিচারিক সিদ্ধান্ত হয়নি, তবুও সমস্ত দিক নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি তাঁর।

ঘটনাটি এখনও আইনি প্রক্রিয়ার পর্যায়ে। অভিযোগ জমা পড়েছে, জিরো এফআইআর রুজুর আবেদনও করা হয়। তবে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে এমন সিদ্ধান্ত এখনও কোনও তদন্তকারী সংস্থা বা আদালত দেয়নি। ফলে পরবর্তী সময়ে পুলিশ কী পদক্ষেপ নেয়, তদন্ত কোন দিকে এগোয় এবং আদালত এই অভিযোগগুলিকে কীভাবে মূল্যায়ন করে, সেদিকেই এখন নজর আইনজীবী মহল, রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক এবং সাধারণ মানুষের। আদালতের নির্দেশ কি হতে পারে বলে আপনাদের মনে হয় !

 

 

More From Author

দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা…।

১৮ বছর ট্রানজিটে আটকে থাকা এক মানুষের গল্প। এয়ারপোর্টই যার ঘর, এয়ারপোর্টেই শেষ নিঃশ্বাস…।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *