কঙ্ক ঘোষ দস্তিদার : কলকাতা, ৬ আগস্ট, ২০২৬। একের পর এক নিম্নচাপ ও ঘূর্ণাবর্তের প্রভাব, বৃষ্টি কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না বঙ্গবাসীর ! এই পরিস্থিতিতে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় জারি অতিভারী বৃষ্টি ও ভারী বৃষ্টির সতর্কতা। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিন দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা। তবে রবিবার থেকে ধীরে ধীরে বৃষ্টির পরিমাণ ও ব্যাপকতা কমতে পারে বলেও আশার খবর হাওয়া অফিসের।
আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দক্ষিণবঙ্গের তিনটি জেলায় অতিভারী বৃষ্টির জন্য কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এই জেলাগুলি হল পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং বাঁকুড়া। এই তিন জেলায় কোথাও কোথাও অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা। পাশাপাশি কলকাতাসহ সাতটি জেলায় ভারী বৃষ্টির জন্য হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এই তালিকায় আছে কলকাতা, হাওড়া, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পশ্চিম বর্ধমান, ঝাড়গ্রাম এবং পুরুলিয়া। ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতেও পারে, আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস। এছাড়াও দক্ষিণবঙ্গের সব জেলাতেই বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানিয়ে হলুদ সতর্কতা জারি।
বৃহস্পতিবার কলকাতাতেও দিনের বিভিন্ন সময়ে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ভারী বৃষ্টি হতে পারে। তাই হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বুধবার কলকাতায় ৬৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, ফলে শহরের একাধিক এলাকায় জল জমার সমস্যাও দেখা দেয়। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস বলছে, শুক্রবার এবং শনিবারও শহরে বিক্ষিপ্তভাবে দু-এক পশলা বৃষ্টি হতে পারে। তবে রবিবার থেকে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা।
আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, এই বৃষ্টির নেপথ্যে একাধিক সক্রিয় আবহাওয়াগত কারণ ! বর্তমানে মৌসুমী অক্ষরেখা ফিরোজপুর থেকে ডালটনগঞ্জ, সেখান থেকে কাঁথির ওপর দিয়ে উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত। পাশাপাশি বিহার ও সংলগ্ন উত্তরবঙ্গের ওপরও একটি ঘূর্ণাবর্ত সক্রিয়। এছাড়া উত্তর-পূর্ব বাংলাদেশ ও সংলগ্ন এলাকা এবং অসমের ওপর আরও দু’টি ঘূর্ণাবর্তর অবস্থান। এই সবের প্রভাবেই দক্ষিণবঙ্গজুড়ে প্রবল বৃষ্টির অনুকূল পরিস্থিতি।
অন্যদিকে উত্তরবঙ্গের জন্য কিছুটা স্বস্তি। বৃহস্পতিবার সেখানে বৃষ্টির দাপট কিছুটা কমতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। তবে দার্জিলিং, কালিম্পং, কোচবিহার, জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ার জেলায় ভারী বৃষ্টির জন্য হলুদ সতর্কতা জারি। তবে শুক্রবারও উত্তরবঙ্গের সব জেলাতেই বিক্ষিপ্তভাবে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা। পাশাপাশি ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া। তবে রবিবার থেকে উত্তরবঙ্গেও বৃষ্টির পরিমাণ এবং ব্যাপকতা অনেকটাই কমে যাবে আশা। ওই দিন কোনও জেলার জন্যই বিশেষ সতর্কতা থাকবে না। শুধু বিক্ষিপ্তভাবে দু-এক জায়গায় হালকা বৃষ্টির সামান্য সম্ভাবনা।
সব মিলিয়ে আগামী দু-তিন দিন দক্ষিণবঙ্গের মানুষকে বৃষ্টি, বজ্রবিদ্যুৎ এবং ঝোড়ো হাওয়ার জন্য সতর্ক থাকতে হবে। বিশেষ করে যেসব জেলায় অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস।
