নিজস্ব প্রতিনিধি : কলকাতা, ১০ জুলাই, ২০২৬। আগামী মৈত্রী কালচারাল ইকোনমি সমিতি (MCES) – ওয়েস্ট বেঙ্গল সামিট-কে সামনে রেখে আয়োজিত আনুষ্ঠানিক কার্টেন রেইজার ও সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত বিশিষ্ট অতিথিরা সাংস্কৃতিক শিকড়ে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত এবং অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ পশ্চিমবঙ্গ গড়ে তোলার লক্ষ্যে এই উদ্যোগের দৃষ্টিভঙ্গি, কর্মপরিকল্পনা এবং ভবিষ্যৎ রূপরেখা তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হরিয়ানার রাজ্যপাল অধ্যাপক (ড.) অসীম কুমার ঘোষ। এমসিইএস ওয়েস্ট বেঙ্গল সামিটের প্রেস লঞ্চ অনুষ্ঠানে তিনি এই উদ্যোগের অভিনব ভাবনার প্রশংসা করে বলেন, “এই মঞ্চে শিক্ষাবিদ, বিজ্ঞানী, শিল্পজগতের নেতৃত্ব, কবি, চিন্তাবিদ এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞরা একটি অভিন্ন লক্ষ্য নিয়ে একত্রিত হয়েছেন। জ্ঞান, সংস্কৃতি এবং সম্মিলিত প্রজ্ঞার এই মিলন আমাদের চিরন্তন সভ্যতা, মূল্যবোধ ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ভিত্তিতে একটি শক্তিশালী ভারত গড়ে তোলার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এই অসাধারণ উদ্যোগের প্রতিষ্ঠাতা মৈত্রেয় দাদাশ্রীজি, আয়োজক মৈত্রীবোধ পরিবার এবং এর সঙ্গে যুক্ত সকলকে আমি আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।”
আগামী ১৭ জুলাই কলকাতায় অনুষ্ঠিতব্য মূল সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিশিষ্ট গণ্যমান্য ব্যক্তি, নীতিনির্ধারক, বিভিন্ন মন্ত্রকের প্রতিনিধি, শিল্পজগতের শীর্ষ ব্যক্তিত্ব, শিক্ষাবিদ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং আধ্যাত্মিক চিন্তাবিদদের অংশগ্রহণের প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
এই উদ্যোগের মূল দর্শন সম্পর্কে এমসিইএস-এর পৃষ্ঠপোষক এবং বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র (অর্থনৈতিক বিষয়ক) শ্রী গোপাল কৃষ্ণ আগরওয়াল বলেন, “ওয়েস্ট বেঙ্গল সামিটের লক্ষ্য হল পশ্চিমবঙ্গের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে একটি অর্থবহ অর্থনৈতিক সংযোগ স্থাপন করা এবং সেই ঐতিহ্যকে জননীতি ও সুশাসনের কাঠামোর সঙ্গে একীভূত করা।”
সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীরা পশ্চিমবঙ্গের সাংস্কৃতিক অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি এমন একটি ভবিষ্যৎ নির্মাণ নিয়ে আলোচনা করবেন, যেখানে ঐতিহ্য এবং উন্নয়ন সমানতালে এগিয়ে যাবে।
মৈত্রীবোধ পরিবারের প্রতিনিধিত্বকারী এবং মৈত্রেয় দাদাশ্রীজির প্রত্যক্ষ শিষ্য মিত্র জীব তাঁর বক্তব্যে বলেন, “একটি দেশের স্থায়ী রূপান্তরের সূচনা হয় ব্যক্তির আত্মরূপান্তরের মধ্য দিয়েই। প্রকৃত জাতি গঠন শুরু হয় চরিত্র গঠনের মাধ্যমে। মৈত্রীবোধ পরিবারে আমরা এমন একটি কর্মমুখী আন্দোলন গড়ে তুলছি, যা সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিকতার অনুপ্রেরণায় দৃঢ় মূল্যবোধের ভিত্তি নির্মাণ করে এবং প্রতিটি নাগরিককে জাতীয় অগ্রগতির সক্রিয় শক্তিতে পরিণত করতে সক্ষম করে। শিশু, যুবসমাজ, কর্পোরেট, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, কৃষক কিংবা শহুরে মানুষ—সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষকে ক্ষমতায়ন করাই মৈত্রীবোধের লক্ষ্য।”
পশ্চিমবঙ্গকে কেন্দ্রবিন্দুতে রেখে এই সম্মেলনের লক্ষ্য, ভারতের আগামী জাতীয় উন্নয়নের পর্বে পূর্বাঞ্চলকে একটি অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা।
