অশান্ত বিশ্বের শান্তির পথ শ্রীচৈতন্যের বাণী, সেই বার্তাই বিশ্বব্যাপী প্রচার করে কলকাতায় ফিরলেন গৌড়ীয় মিশনের সভাপতি ও আচার্য্য ভক্তি সুন্দর সন্ন্যাসী মহারাজ…।

নিজস্ব প্রতিনিধি : কলকাতা, ৮ জুলাই, ২০২৬। যুদ্ধ, রাজনৈতিক সংঘাত, সামাজিক অবক্ষয় ও মানসিক অস্থিরতায় যখন বিশ্বের একের পর এক দেশ বিপর্যস্ত, তখন শান্তি ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার পথ হিসেবে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর প্রেম, ভক্তি ও হরিনাম সংকীর্তনের আদর্শকে গ্রহণ করছেন বিশ্বের বহু মানুষ। সেই বার্তা ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা ও মধ্য আমেরিকার বিভিন্ন দেশে পৌঁছে দিয়ে কলকাতায় ফিরলেন গৌড়ীয় মিশনের সভাপতি ও আচার্য্য ভক্তি সুন্দর সন্ন্যাসী মহারাজ।

গত ১৪ মে কলকাতার বাগবাজার থেকে মাধব মহারাজকে সঙ্গে নিয়ে বিদেশ সফরে বের হন তিনি। প্রথমে লন্ডনের ঐতিহাসিক শ্রী বাসুদেব গৌড়ীয় মঠে গিয়ে প্রচার কর্মসূচি শুরু হয়। এরপর অস্ট্রিয়া, জার্মানি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা, কলম্বিয়া, কোস্টারিকা, রচেস্টার গৌড়ীয় মঠ এবং নিউইয়র্কে ধারাবাহিক ধর্মীয় আলোচনা, হরিনাম সংকীর্তন ও আধ্যাত্মিক সভার আয়োজন করা হয়। সফরের শেষ পর্যায়ে কানাডাতেও একাধিক অনুষ্ঠানে অংশ নেন তাঁরা।

বিদেশ সফর শেষে কলকাতায় ফিরে আচার্য্য ভক্তি সুন্দর সন্ন্যাসী মহারাজ বলেন, বর্তমান বিশ্বে মানুষের সবচেয়ে বড় সংকট কেবল অর্থনৈতিক বা রাজনৈতিক নয়, বরং আধ্যাত্মিক সংকট। মানুষের অন্তরে শান্তির অভাব থেকেই হিংসা, সংঘাত ও বিভাজনের জন্ম হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর প্রেম, করুণা, সহিষ্ণুতা ও সর্বজনীন ভ্রাতৃত্বের শিক্ষা আজ আরও বেশি প্রাসঙ্গিক।

তিনি জানান, এই সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল জগৎগুরু ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী প্রভুপাদ প্রতিষ্ঠিত ‘পরাবিদ্যাপীঠ’-এর দর্শন ও গুরুত্ব বিশ্বের মানুষের কাছে তুলে ধরা। মানুষের জীবনে কেবল জাগতিক শিক্ষা নয়, আধ্যাত্মিক শিক্ষাও সমান প্রয়োজন। অপরাবিদ্যার কুপ্রভাব থেকে মুক্ত হয়ে মানবিক ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে পরাবিদ্যার চর্চা অপরিহার্য বলেও তিনি মত প্রকাশ করেন।

মহারাজের দাবি, বিভিন্ন দেশে আয়োজিত সভা, আলোচনা ও হরিনাম সংকীর্তনে বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশ নেন। বিশেষ করে কানাডা, কলম্বিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বিভিন্ন প্রান্তে বহু মানুষ শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর ভাবধারা সম্পর্কে জানতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। অনেকেই জানান, ভোগবাদী জীবনের বাইরে প্রকৃত শান্তি, আনন্দ ও মানবিক মূল্যবোধের সন্ধান তাঁরা এই আধ্যাত্মিক দর্শনের মধ্যেই খুঁজে পেয়েছেন।

কলকাতায় ফিরে আচার্য্য ভক্তি সুন্দর সন্ন্যাসী মহারাজ বলেন, “আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টার মাধ্যমে যদি বিশ্বের মানুষের কাছে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর শান্তি, প্রেম ও ভক্তির বার্তা আরও কিছুটা পৌঁছে দিতে পারি, তবে সেটাই হবে আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। বর্তমান বিশ্বের অশান্তি দূর করে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় শ্রীচৈতন্যের দেখানো পথই মানবজাতির সামনে এক অনন্য দিশা হয়ে উঠতে পারে।”

More From Author

INIYA Aesthetics & Wellness Celebrates Two Remarkable Years, Launches Eastern India’s First EMSCULPT NEO….

মহাভারতের সতী গান্ধারী..।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *