ডাঃ দীপালোক বন্দ্যোপাধ্যায়। কলকাতা, ৫ জুন ২০২৬।
আজও ভোরের শিশিরে লিখে যায় ঘাসের ডগা
পৃথিবীর গোপন দিনলিপি—
কিন্তু আমরা কি পড়ি তা?
নদী আজ এক ক্লান্ত বাউল,
কাঁধে তার প্লাস্টিকের বিষণ্ণ একতারা,
সুর তুলতে চায়,
তবু জলের কণ্ঠে জমে থাকে ধোঁয়ার কফ।
অরণ্য ছিল সবুজ প্রার্থনার মন্দির,
শাল, সেগুন, বট আর অশ্বত্থের স্তম্ভে
দাঁড়িয়ে থাকত নীরব উপাসনা;
আজ সেখানে কুঠারের দাঁত
সময়কে কেটে কেটে বানায়
নির্জনতার কবর ফলক।
আকাশ এক বিশাল নীল চিঠি,
মেঘ তার সাদা খাম;
পাখিরা লিখত স্বাধীনতার কবিতা।
এখন ধোঁয়ার কালো কালি
সেই চিঠির বুকে আঁকে
অদৃশ্য অশ্রুর দাগ।
সমুদ্র এক গর্ভবতী জননী,
বুকে ধারণ করে অসংখ্য প্রাণের স্বপ্ন;
আমরা তার আঁচলে ঢেলে দিই
লোভের তেল, বিষের আবর্জনা,
তবু সে ঢেউ হয়ে বারবার বলে—
“ফিরে এসো, সন্তান,
এ পৃথিবী তোমাদেরও ঘর।”
পাহাড়গুলো বৃদ্ধ ঋষির মতো
সহস্র বছরের ধ্যানে বসে আছে;
তাদের কপালের বরফ গলে গলে
নেমে আসে উদ্বেগের জলধারা।
উষ্ণতার জ্বর
আজ প্রকৃতির শরীরে জ্বলন্ত প্রদীপ।
তবু আশা মরে না।
একটি চারাগাছ মানে
আগামীকালের সবুজ উচ্চারণ,
একটি পাখির ডানা মানে
আকাশের প্রতি বিশ্বাস,
এক ফোঁটা নির্মল জল মানে
পৃথিবীর হৃদয়ে বেঁচে থাকা কবিতা।
এসো, আজ বিশ্ব পরিবেশ দিবসে
আমরা বৃক্ষের কাছে শিখি দান,
নদীর কাছে শিখি চলা,
মাটির কাছে শিখি বিনয়,
আর বাতাসের কাছে শিখি
সবার জন্য বাঁচার গান।
কারণ পৃথিবী কোনো সম্পত্তি নয়—
সে আমাদের মায়ের মুখ,
আমাদের সন্তানের ভবিষ্যৎ,
আমাদের স্বপ্নের একমাত্র ঠিকানা।
এসো, তাকে রক্ষা করি।
যেন আগামী প্রজন্ম
শুধু বইয়ের পাতায় নয়,
বাস্তবের বনভূমিতে শুনতে পায়
কোকিলের গান,
নদীর কলতান,
আর সবুজ পৃথিবীর
অমর হৃদস্পন্দন ॥
