১ সেপ্টেম্বর থেকে জনগণ সাবধান হয়ে যান কিন্তু কেন ….?

কঙ্ক ঘোষ দস্তিদার : কলকাতা, ২১ জুন, ২০২৬।  রাজ্যের শহর ও পুর এলাকাগুলিকে আরও পরিচ্ছন্ন, আধুনিক এবং প্রযুক্তিনির্ভর করে তুলতে একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছেন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। শুক্রবার সল্টলেকের নগর উন্নয়ন ভবনে সাংবাদিক বৈঠকে তিনি জানান, আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে রাস্তাঘাট নোংরা করলে জরিমানা করা হবে। যত্রতত্র থুতু ফেলা, প্লাস্টিক ব্যবহার বা প্রকাশ্যে প্রস্রাব করার মতো কাজের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে স্পষ্ট বার্তা তাঁর।

মন্ত্রী জানান, পুর আইন অনুযায়ী ১ সেপ্টেম্বর থেকে রাস্তায় থুতু ফেললে ১০০ টাকা জরিমানা দিতে হবে। অন্যদিকে প্লাস্টিক ব্যবহার কিংবা যেখানে সেখানে প্রস্রাব করলে ২০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা গুনতে হবে। শুধু তাই নয়, দোকানের সামনে আবর্জনা জমিয়ে রাখলে ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে কড়া বার্তা দিয়ে অগ্নিমিত্রা বলেন, রাস্তা কোনও ব্যক্তির ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। তাই দোকানের সামনে ময়লা বা আবর্জনা ফেলে রাখলে জরিমানা করা হবে।

পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার লক্ষ্যে কলকাতা পুরসভা ইতিমধ্যেই ‘স্বচ্ছ অ্যাপ’ চালু করেছে। সেই সময় থেকেই জানানো হয়, সেপ্টেম্বর মাস থেকে পুর আইন বলবৎ। এবার সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের পথে প্রশাসন।

এদিন নাগরিক সমস্যার দ্রুত সমাধানের জন্য একটি নতুন টোল-ফ্রি হেল্পলাইন নম্বর চালুর ঘোষণাও করেন মন্ত্রী। তিনি জানান, ১৮০০-৩৪৫-০৯৩৮ নম্বরে ফোন করে রাজ্যের যে কোনও প্রান্তের মানুষ নিজেদের সমস্যার কথা জানাতে পারবেন। বর্তমানে এই পরিষেবা সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত চালু থাকবে। তবে খুব শীঘ্রই এটিকে ২৪ ঘণ্টার পরিষেবায় রূপান্তরিত করা হবে। অগ্নিমিত্রার দাবি, নাগরিকরা ফোনে অভিযোগ জানালে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করবেন। শুধু কলকাতা নয়, গোটা পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দারাই এই পরিষেবার সুবিধা পাবেন।

পশ্চিমবঙ্গ দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সম্ভাব্য বঙ্গ সফরকে সামনে রেখে রাজ্যজুড়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, শহর ও পুর এলাকাগুলিকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এদিকে শুক্রবার ভোর থেকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টিতে কলকাতা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় জল জমার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সেই পরিস্থিতি মোকাবিলায় কলকাতা পুরসভা ও সেচ দপ্তর যৌথভাবে কাজ করছে বলে জানান অগ্নিমিত্রা। তাঁর কথায়, বর্তমানে ৩৯টি পাম্প লাগাতার কাজ করছে। পাশাপাশি অতিরিক্ত ৩৪টি পাম্প ভাড়া করা হয়েছে এবং আরও ৫০টি পাম্প আনার প্রক্রিয়া চলছে, দ্রুত জল নামানোর জন্য।

রাজস্ব ফাঁকি রোধ এবং বিজ্ঞাপন ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও আধুনিক করতে ডিজিটাল হোর্ডিং চালুর কথাও ঘোষণা করেছেন মন্ত্রী। প্রথম পর্যায়ে কলকাতার পার্ক স্ট্রিট, ক্যামাক স্ট্রিট এবং থিয়েটার রোডকে বেছে নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই লাউডন স্ট্রিট ও বর্ধমান মার্কেট এলাকায় ডিজিটাল হোর্ডিং চালু হয়ে গিয়েছে। আগামী শনিবার ও রবিবার সেখানে বিশ্বকাপের খেলা সম্প্রচার করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

এছাড়াও পরিবেশবান্ধব পরিকাঠামো গড়ে তুলতে ‘সোলার ডিজিটাল বাস স্ট্যান্ড’ চালুর কথাও তুলে ধরেন অগ্নিমিত্রা পাল। তাঁর দাবি, ভবিষ্যতের বাসস্ট্যান্ডগুলিতে থাকবে মোবাইল চার্জিংয়ের ব্যবস্থা এবং শিশুদের খাওয়ানোর জন্য আলাদা ঘর। ফলে সাধারণ যাত্রীদের সুবিধা বাড়বে। শহরের পরিকাঠামোও আরও আধুনিক ও নাগরিকবান্ধব হয়ে উঠবে বলেই আশা।

সব মিলিয়ে পরিচ্ছন্নতা, নাগরিক পরিষেবা, জলনিকাশি ব্যবস্থা, ডিজিটাল পরিকাঠামো এবং পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন— এই পাঁচটি ক্ষেত্রকে সামনে রেখে রাজ্য সরকার একাধিক নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে স্পষ্ট বার্তা পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের।

বহুদিনের অভ্যেস পান মশালা খেয়ে রাস্তায় থু থু করা আর যেখানে সেখানে প্রস্রাব করতে দাঁড়িয়ে পড়া আমাদের জন্য এত কড়া আইন লাগু করা উচিৎ না অনুচিৎ সরকারের ? আপনাদের মতামত জানান।

More From Author

পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় ‘লাখপতি দিদি’ গড়ে তুলতে ফ্লিপকার্টের অনন্য উদ্যোগ…।

বলিদান দিবসে রক্তদাতাদের উৎসাহ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী…।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *