ভাইরাল ‘টাওয়েল ড্যান্স’ বিতর্ক: ব্যাঙ্ককের রাস্তায় নেচে কটাক্ষের শিকার প্রাক্তন মিস কলকাতা সন্নতি মিত্র, নিন্দুকদের কড়া জবাব দিলেন ইনফ্লুয়েন্সার হেমশ্রী ভদ্র…।

নিজস্ব প্রতিনিধি : কলকাতা। ১৫ জুন, ২০২৬। সোশ্যাল মিডিয়ায় কনটেন্ট তৈরির সীমানা আসলে কতদূর, তা নিয়ে ইন্টারনেট দুনিয়া আরও একবার দ্বিধাবিভক্ত। ব্যাঙ্ককের রাস্তায় তোয়ালে পরে নাচার একটি ভিডিও পোস্ট করে তুমুল বিতর্কের মুখে পড়েছেন প্রাক্তন মিস কলকাতা (২০১৭) এবং জনপ্রিয় ইনস্টাগ্রাম মডেল সন্নতি মিত্র। এই ঘটনাটি অনলাইনে ব্যাপক ট্রোলিংয়ের জন্ম দিয়েছে। একাধিক ইনফ্লুয়েন্সার তাঁকে রোস্ট করে ভিডিও বানানোর পর, নিন্দুকদের কড়া জবাব দিতে আসরে নামেন সন্নতির ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং স্বনামধন্য ডিজিটাল ইনফ্লুয়েন্সার হেমশ্রী ভদ্র।

খাওসান রোডের সেই ঘটনা

বিতর্কের সূত্রপাত ঘটে যখন সন্নতি লতা মঙ্গেশকরের আইকনিক গান “মেরে খোয়াবো মে যো আয়ে”-র সাথে নাচের একটি ভিডিও আপলোড করেন। তবে সাধারণ কোনো পটভূমিতে নয়, সন্নতি শুধুমাত্র একটি সাদা তোয়ালে জড়িয়ে ব্যাঙ্ককের খাওসান রোডের মাঝখানে এই নাচ পরিবেশন করেন। উল্লেখ্য, এই রাস্তাটি ব্যাকপ্যাকার এবং স্ট্রিট পার্টির জন্য বিশ্বজুড়ে বিখ্যাত।

ভিডিওটি অনলাইনে আসার প্রায় সাথে সাথেই ভারতীয় নেটিজেনদের একাংশ ক্ষোভে ফেটে পড়েন। কমেন্ট সেকশনে সমালোচনার ঝড় ওঠে এবং বেশ কয়েকজন কনটেন্ট ক্রিয়েটর এই সুযোগে রোস্ট ভিডিও প্রকাশ করে এই কাজের তীব্র নিন্দা করেন। সমালোচকদের মতে, বিদেশের রাস্তায় তোয়ালে পরে নাচাটা শুধুমাত্র সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিউজ পাওয়ার একটি মরিয়া চেষ্টা এবং এটি বিদেশে ভারতীয় পর্যটকদের ভাবমূর্তি নষ্ট করে।

ক্রিয়েটরদের কড়া জবাব: ‘সাংস্কৃতিক ভণ্ডামি’র অভিযোগ

ভাইরাল রোস্টিংয়ের জবাবে, সন্নতি মিত্র এবং হেমশ্রী ভদ্র—যিনি কলকাতার একজন অত্যন্ত প্রভাবশালী ডিজিটাল কনটেন্ট ক্রিয়েটর এবং যাঁর ১.৩ মিলিয়নেরও বেশি ফলোয়ার রয়েছে—নিন্দুকদের মুখোমুখি হতে একটি যৌথ ভিডিও বিবৃতি প্রকাশ করেন।

ক্ষমা চাওয়ার পরিবর্তে, তাঁরা তাঁদের এই কাজের পক্ষে জোরালো সওয়াল করেন এবং বিদেশি পর্যটক ও ভারতীয় নেটিজেনদের মানসিকতার মধ্যে থাকা বিশাল পার্থক্যের কথা তুলে ধরেন:

* **পার্টির পরিবেশ:** সন্নতি এবং হেমশ্রী জোর দিয়ে বলেন যে, খাওসান রোড তার উন্মুক্ত পার্টি এবং উদ্দাম পরিবেশের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত। তাঁদের মতে, এই নাচটি সেই রাস্তার প্রাণবন্ত শক্তির সাথে পুরোপুরি মানানসই ছিল।

* **আন্তর্জাতিক সমর্থন:** ইনফ্লুয়েন্সারদের দাবি, শুটিংয়ের সময় সেখানে উপস্থিত আন্তর্জাতিক দর্শকরা এই পারফরম্যান্সটি দারুণ উপভোগ করেছিলেন। বিচার করার বদলে, বিদেশি মহিলারা সন্নতির কাছে এসে তাঁর প্রশংসা করেন, তাঁকে “গর্জিয়াস” এবং “বিউটিফুল” বলেন, এমনকি একসাথে ইনস্টাগ্রাম রিল তৈরি করারও অনুরোধ করেন।

* **ট্রোলদের সমালোচনা:** ক্রিয়েটররা ভারতীয় দর্শকদের মানসিকতা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে বলেন যে, তাঁরা নিজেদের দেশের মানুষকে ছোট করতে পছন্দ করেন। তাঁদের যুক্তি, আন্তর্জাতিক দর্শকরা যখন এত উৎসাহ দিচ্ছেন, তখন এই অনলাইন রোস্টিং আসলে এক ধরনের সংকীর্ণ মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ, যা ব্যক্তিগত স্বাধীনতা এবং সৃজনশীলতাকে সম্মান করতে জানে না।

শিষ্টাচার বিতর্ক: কোচের মতামত

ক্রিয়েটররা একে নির্দোষ বিনোদন হিসেবে দেখলেও, এই ভাইরাল ভিডিওটি আন্তর্জাতিক ভ্রমণের শিষ্টাচার এবং এনগেজমেন্টের জন্য ইনফ্লুয়েন্সাররা কতদূর যেতে পারেন, তা নিয়ে একটি বৃহত্তর আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

এই ঘটনাটি শিষ্টাচার এবং এলিগেন্স কোচ (Etiquette and elegance coach) মানিক কৌরের দৃষ্টি আকর্ষণ করে, যিনি ডিজিটাল খ্যাতির পিছনে ছুটে চলা আধুনিক পর্যটকদের আচরণের তীব্র সমালোচনা করেছেন। ইনফ্লুয়েন্সাররা বিদেশি স্থানগুলোকে নিজেদের ব্যক্তিগত ফিল্ম সেট হিসেবে ব্যবহার করার যে প্রবণতা দেখাচ্ছেন, সে বিষয়ে তিনি জনসাধারণের শালীনতা নিয়ে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেন:

* **পরিবেশ বোঝা:** কৌর জোর দিয়ে বলেন যে, একজন সুশিক্ষিত পর্যটক হওয়ার অর্থ এই নয় যে আপনি কতগুলি দেশ ভ্রমণ করেছেন, বরং এর অর্থ হলো “সীমানা বুঝতে পারা, পরিবেশকে পড়া এবং আপনি যে দেশে আছেন তার মানুষ ও সংস্কৃতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা।”

* **পাবলিক স্পেস বনাম পার্সোনাল স্টুডিও:** জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত স্থানে এমন ব্যাঘাতমূলক কনটেন্ট তৈরির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে তিনি দর্শকদের মনে করিয়ে দেন যে, “প্রতিটি সর্বজনীন স্থান বিনোদনের জন্য নয়” এবং “প্রতিটি মুহূর্ত কনটেন্ট তৈরির জন্য নয়।”

কনটেন্ট এবং শালীনতার মধ্যে সীমারেখা

রোস্ট ভিডিওগুলি এখনও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ছে এবং ক্রিয়েটররাও তাঁদের শৈল্পিক স্বাধীনতার অধিকারে অনড় রয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে খাওসান রোডের ঘটনাটি আধুনিক ডিজিটাল যুগের এক নতুন সংকটের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটি সোশ্যাল মিডিয়া প্রজন্মের কাছে একটি বড় প্রশ্ন তুলে ধরেছে: নিরীহ সৃজনশীল প্রকাশ এবং জনসাধারণের শিষ্টাচারের অভাবের মধ্যে সীমারেখাটি ঠিক কোথায়?

সন্নতি মিত্র এবং হেমশ্রী ভদ্রের কাছে উত্তরটি পরিষ্কার— ইন্টারনেট ট্রোলদের নীতি-পুলিশি দ্বারা শিল্প এবং বিনোদনকে সীমাবদ্ধ করা উচিত নয়। তবে, এই বিতর্কটি চলতে থাকায়, ইনফ্লুয়েন্সার সংস্কৃতি এবং নাগরিক শিষ্টাচারের মধ্যে সংঘাত একটি অত্যন্ত আলোচিত বিষয় হিসেবেই রয়ে গেছে।

More From Author

PEPSICO STRENGTHENS NUTRITION CREDENTIALS WITH LANDMARK QUAKER® RESTAGE SPOTLIGHTING PROTEIN AND FIBRE….

Shri 1008 Munisuvratanath Digambar Jain Trust Organises Special Cleanliness Drive in Support of ‘Swachhata Se Swagat’….

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *