বাত আসলে একটি রোগ নয় একই পরিবারের অনেকগুলি রোগের সমষ্টি

” বাত ( ARTHRITIS )”!


ডাঃ দীপালোক বন্দ্যোপাধ্যায় : কলকাতা, ১৩ আগস্ট, ২০২৬। বাত আসলে একটি রোগ নয় একই পরিবারের অনেকগুলি রোগের সমষ্টি ৷ গ্রীক artho মানে সন্ধি এবং itis

অর্থাৎ প্রদাহ , যা অস্থি সন্ধিগুলিকে আক্রান্ত করে ৷ এই সিস্টেমিক বা প্রগ্রেসিভ রোগ সারা শরীরে প্রভাব ফেলে

রোগীকে কর্মক্ষমতাহীন ও শয্যাশায়ী করে তুলতে পারে ৷ বয়স জনিত ক্ষয় , আঘাত , অপুষ্টি , অতিরিক্ত ওজন , ভিটামিন -ডি এবং ক্যালসিয়ামের ঘাটতি বাতের কারণ ৷ Klebsiella নামের ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণে ও Allergy র জন্য Reactive arthritis নামের স্বল্পমেয়াদী বাত হতে পারে ৷ শরীরের কোন স্থানে দীর্ঘদিন ব্যথা চলতে থাকলে তাকে “বাত” বলা হয় ৷ সর্বাধিক মানুষ অস্টিও আর্থারাইটিসে ভোগে ৷বেশির ভাগ বাত হয় ঘাড়ে , হাঁটুতে , কোমরে ও ছোট-বড় অস্থিসন্ধিতে ৷ ভারবহন ও ক্ষয় হওয়ার জন্য ৷ প্রায় ১০০ রকমের বাত আছে ৷ হাড়, লিগামেন্ট , টেন্ডন , মাংসপেশি আক্রান্ত করে ৷ মহিলাদের মাসিক বন্ধের পর আর পুরুষদের আরেকটু পরে ৫৫ বছরের পর বাত বেশি হয় ৷জয়েন্টের ব্যবহার , চোট আঘাত , জিনগত , ইনফেকশন নানা কারণে বিভিন্ন বাত হয় ৷অল্প বয়সীদের গিঁট ফুলে ব্যথা হয়ে বাত জ্বর হয় ৷আগেই বলেছি অনেকগুলি রোগকে আমরা বাত বলি ৷ যেমন – সন্ধিবাত বা Rhematoid Arthritis ,অস্থিসন্ধি বা জয়েন্টের বেশি ব্যবহার জনিত Oesteoarthritis.জয়েন্ট ফুলে লাল হয়ে গিয়ে ব্যথা Gouty Arthritis .

কোমরে বাত বা কটি বাত ইংরেজিতে Lumbago.

মেরুদন্ডের ঘাড় ও কোমরের প্রদাহ Spondylosis.

সায়েটিক স্নায়ুর প্রদাহ Sciatica . একরকম এলার্জি গায়ে চাকা চাকা হয় আমবাত বা Urticaria. ঘাড়ের ব্যথা Stiff Neck , কাঁধের বাত Omalgia ,পুঁজোৎপাদক সন্ধিপ্রদাহ Pyogenic Arthritis, সোরায়সিস থেকে সোরাইটিক আর্থ্রারাইটিস ,যক্ষ্মাজনিত বাত Tuberculous Arthritis ,পেশির প্রদাহ Myositis,সন্ধি বেঁকে যাওয়া কশেরু প্রদাহ Ancylosing Spondylitis, কনজেনিটাল ডিফরমিটি – কনজেনিটাল ট্যালিপেস ইক্যুইনোভেরাস বা ক্লাব ফুট এবং পার্শ্ববাত বা Pleurodynia প্রভৃতি ৷ একেক বাত সনাক্ত করতে একেক রকম পরীক্ষা দরকার ৷ রক্ত পরীক্ষা , এক্স রে , এম আর আই করতে হয় ৷চিকিৎসাও আলাদা ৷ কোন বাতে হাঁটাচলা দরকার ৷ আবার কোনটায় দরকার বিশ্রাম ৷ সূর্যালোক আমাদের শরীরে ভিটামিন -ডি তৈরী করে ৷সকাল ১০ টা থেকে ৩টের মধ্যে আধ ঘন্টা থাকা বা হাঁটায় এটা তৈরী হয়ে হাড়ের গঠন মজবুত করে৷ ফিজিওথেরাপি বা ব্যায়াম অনেক বাতে কার্যকর ৷ এজন্য অভিজ্ঞ ফিজিওথেরাপিস্টের পরামর্শ নেওয়া উচিত ৷হাঁটুর ব্যথার রোগী সবচেয়ে বেশি ৷ হাঁটুর মধ্যে আর্টিকুলার কার্টিলেজ বলে একরকম শক প্রতিরোধী পদার্থ থাকে ৷ এই মসৃণ পর্দা অস্থিসন্ধির হাড়

গুলির ঘষর্ণজনিত আঘাত রোধ করে ৷ তাই হাঁটাচলা সহ কাজের সময় সুস্থ মানুষ ব্যথা অনুভব করে না ৷

বয়সের কারণে কার্টিলেজের ক্ষয় হতে থাকে ৷ তখন হাঁটতে গেলে , উঠবস করলে ব্যথা হতে থাকে ৷ এই পরিণতিকে বলে অস্টিও আর্থ্রোসিস ৷ আর রোগটার নাম অস্টিও আর্থ্রাইটিস ৷ কিছুক্ষণ বসে থাকার পর উঠতে গেলে ব্যথা হলে বুঝবেন ৷ শারীরিক পরিশ্রম , ব্যায়াম না করা , ওজন বেড়ে যাওয়া , অনিয়ন্ত্রিত খানাপিনার জন্য এই ধরণের বাত এদেশে সর্বাধিক ৷রিউম্যাটয়েড আর্থারাইটিস হার্ট , লাং , রক্তনালী থেকে চোখ সহ নানা সিস্টেমকে নষ্ট করে ৷ এটা অটোইমিউন রোগ ৷আপনি এসিড কমানোর ওষুধ , সব বাতে ব্যথার ওষুধ , নন স্টেরয়ডাল এন্টিইনফ্লামেটরি ড্রাগ , কখনো প্রেডনিসোলেনের মত স্টেরয়েড ,এন্টি রিউম্যাটিক (DMRD) ওষুধ , এলপিউরিনল , কোলচিসিন , প্রোবেনেসিড ,মালিশ , স্প্রে ইত্যাদি দেওয়া হয় ৷ স্নায়ুর সমস্যায় গ্যাবাপেনটিনর মত ওষুধ লাগে ৷ মদ্যপান , অধিক প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার , লাল মাংস , কলিজা , শিমের বিচি খেতে বারণ করা হয় ৷ হাঁটুর ক্ষয়ে সাইনুভিয়াল ফ্লুইড বা জেলি ইনজেকশন , নি রিপ্লেসমেন্ট , কম্পিউটার নেভিগেশন সার্জারী করা হয় রোগ ওষুধে না কমলে বা ভয়াবহ হলে ৷

সুপ্রাচীন কাল থেকে আয়ুর্বেদে যোগরাজ গুগ্গুলের মত ওষুধ , মহামাস বা মহানারায়ণ ধরণের বাতহরণ তেল মালিশ ,নল সেক , জানু বস্তি করে রোগীকে সারিয়ে তোলা হয় ৷ আদা ,রসুন , হলুদ ও দুধ জাতীয় খাবার খেতে বলা হয় ৷ হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় রোগ নয় রোগী প্রাধান্য পায় ৷ যা আমার বইয়ে সবিস্তারে লিখেছি ৷ রাস টক্স , ব্রাইওনিয়া , মেডরিনাম , ল্যাকন্যানথাস , লিডাম পল , বেঞ্জয়িক এসিড , রেডিয়াম ব্রোমাইড , ম্যাক্রোটিনাম ইত্যাদি ওষুধ অধিক ব্যবহার হয় ৷ স্পন্ডাইল বা ভার্টিব্রা বা কশেরুকার প্রদাহে বেল্ট দেওয়া হয় ৷ বিভিন্ন ফুড সাপ্লিমেন্ট কিছুটা কাজ দেয় ৷যোগা বা যোগব্যায়ামে বিভিন্ন আসন যন্ত্রণা উপশমে ও রোগ আরোগ্যে কাজ দেয় ৷ ন্যাচারোপ্যাথিতে জল , কাদা দিয়ে ও উপবাস করিয়ে চিকিৎসা করা হয় ৷ বেশি জল খেতে বলা হয় ৷ সুষম খাবার খেতে হয় ৷ আকুপাংচার মতে সন্ধির ব্যথা হলো পি সিনড্রোম ৷ জীবনীশক্তি ও রক্ত প্রবাহের অসুবিধা দূর করতে বিভিন্ন জায়গার বাতে নির্দিষ্ট স্থানে সূঁচ লাগানো , হ্যামারিং ও কাপিং করা হয় ৷ শুধুমাত্র এ সব চিকিৎসা কিংবা একসাথে একাধিক পদ্ধতির চিকিৎসায় বেশ সুফল মেলে ৷ প্রতিরোধই বাতের সমস্যা উপশম করতে পারে৷ অনেক বাতের নির্দিষ্ট প্রতিকার নেই ৷ তবে সঠিক, চিকিৎসায় ভাল থাকা যায় ৷

 

 

More From Author

Narayana Health and New Development Bank Establish KnowledgeSharing Partnership….

ইস্টবেঙ্গলের ‘স্পোর্টস ডে’ উপলক্ষে সারাদিনব্যাপী অনুষ্ঠান…।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *