শিখা দেব : কলকাতা, ১২ আগস্ট, ২০২৬। একেই বলে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার ইস্টবেঙ্গল। এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ-২ যোগ্যতা অর্জন পর্বের খেলায় কুয়েতের অন্যতম সেরা দল আল আরবি এসসি-র বিরুদ্ধে ইস্টবেঙ্গলের লড়াইটা ছিল দেখার মতন। এই দুই দলের মধ্যে যে দল জিতবে, তারাই মূল পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করবে। তাই ইস্টবেঙ্গলের কোচ হাবাস অত্যন্ত নিপুন ছক কষে আল আরবির আক্রমণের ঝড় সামাল দিয়েছেন। উল্টোদিকে আল আরবির কোচ গোরান সাবলিচ প্রতিপক্ষ দলকে কীভাবে ঘায়েল করা যায়, তার রূপরেখা তৈরি করেন। কিন্তু ইস্টবেঙ্গলের দুরন্ত লড়াইয়ে প্রমাণ করে দিয়েছে জয় কীভাবে ছিনিয়ে আনা যায়। শেষ পর্যন্ত ইস্টবেঙ্গল ৪-১ গোলে কুয়েতের আল আরবি দলকে হারিয়ে দিয়ে জয়ের মশাল জ্বালিয়ে দিল। 
নির্দিষ্ট সময়ে দু’পক্ষই একটি করে গোল করায় খেলা গড়িয়ে যায় অতিরিক্ত সময়ে। বুধবার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গণে এই খেলা দেখার জন্য দর্শকদের ভিড় চোখে পড়ে নি। তবে খেলার শুরু থেকেই আল আরবি পাঁচ বিদেশিকে নিয়ে আক্রমণ গড়ে তোলার চেষ্টা করে। কিন্তু লাল-হলুদের ডিফেন্ডাররা অত্যন্ত সতর্ক ছিলেন।
পাল্টা আক্রমণে ইস্টবেঙ্গলের মহম্মদ রশিদের শট কোনওক্রমে বাঁচান আল আরবির গোলকিপার আলওয়াধি।
২৭ মিনিটের মাথায় আল আরবির রক্ষণভাগ ভেঙে বক্সে ঢুকে পড়েছিলেন এডমুন্ড। কিন্তু বলটি মাঠের বাইরে পাঠিয়ে দেন। খেলার প্রথমার্ধে কোনও পক্ষই গোল করতে পারেনি। তবে ইস্টবেঙ্গল দ্বিতীয়ার্ধে গতি বাড়িয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখে। ৭১ মিনিটের মাথায় রামিজের বদলে মাঠে আসেন পি ভি বিষ্ণু। ৭৬ মিনিটে আল আরবি দল পেনাল্টি পেয়ে যায়। বক্সের মধ্যে মালেকোকে ফাউল করেন সন্দীপ মাণ্ডি। পেনাল্টি থেকে ইওয়ালা গোল করে আল আরবিকে এগিয়ে দেন। ৭৭ মিনিটের মাথায় জেসিনের জায়গায় মাঠে আসেন ক্রিস ইকোনোমিডিস। ৮৯ মিনিটের মাথায় রশিদের ভাসানো ক্রসে দুরন্ত হেডে গোল করেন জয় গুপ্তা। নির্দিষ্ট সময়ে ফলাফল বদল না হওয়ায় অতিরিক্ত সময়ে খেলা গড়িয়ে যায়। অতিরিক্ত সময়ে ইস্টবেঙ্গলের খেলা আগুনের মতো ছুটতে থাকে। অতিরিক্ত সময়ে প্রথমে মহম্মদ রশিদ দুরন্ত হাফ ভলিতে ইস্টবেঙ্গলকে ২-১ গোলে এগিয়ে দেন। তারপরে ডেভিড গোল করে ব্যবধান (৩-১) বাড়িয়ে দেন। পরিবর্ত খেলোয়াড় রোহিত দানুর গোলে ইস্টবেঙ্গল ৪-১ গোলে এগিয়ে যেতেই আনন্দে আর উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন। কাগুজে মশালে জ্বলতে থাকে সমর্থকদের হাতে।
