সুদীপা চৌধুরী মেদিনীপুর, ৪ আগস্ট, ২০২৬। ইতিহাসে কিছু দিন থাকে, যেদিন কেবল মানুষ জন্ম নেয় না—জন্ম নেয় এক একটি অনুভূতি। আজ যাদের জন্মদিন তারা দুজনেই আমাদের প্রচন্ড পছন্দের।
কিশোর কুমারের গান আমার সবচেয়ে সবচেয়ে ফেভারিট। আমি এখনো এভরি ডে তার গান শুনি।
৪ আগস্ট তেমনই একটি দিন।
একদিকে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র। আশ্চর্যের বিষয়, যাঁর কণ্ঠ ছাড়া আজও বাঙালির মহালয়া কল্পনা করা যায় না, তিনি কখনও ভাবেননি যে তাঁর সেই আবৃত্তি একদিন প্রজন্মের পর প্রজন্মের ভোর হয়ে থাকবে। একবার তাঁকে বাদ দিয়ে নতুন কণ্ঠে মহিষাসুরমর্দিনী সম্প্রচার করা হয়েছিল। কিন্তু মানুষের আবেগের কাছে সেই সিদ্ধান্ত টেকেনি। শ্রোতাদের প্রবল অনুরোধে আবার ফিরে এসেছিল সেই অমর কণ্ঠ। এ যেন শিল্পীর সবচেয়ে বড় পুরস্কার—মানুষের ভালোবাসা।
অন্যদিকে কিশোর কুমার। তিনি শুধু গায়ক ছিলেন না, ছিলেন এক বিস্ময়কর স্বাধীনচেতা মানুষ। খুব কম মানুষই জানেন, বাড়ির গেটের সামনে তিনি মজার ছলে লিখে রেখেছিলেন—”Beware of Kishore Kumar”। কেউ অনুমতি ছাড়া ঢুকে পড়লে তিনি কখনও অভিনয় করে ভয় দেখাতেন, কখনও অদ্ভুত সব কাণ্ড করে হাসিয়ে দিতেন। তাঁর এই খামখেয়ালিপনার আড়ালেই ছিল নিজের ব্যক্তিগত জীবনকে রক্ষা করার এক সহজ চেষ্টা।
আরও একটি ঘটনা কম আলোচিত। জরুরি অবস্থার সময় সরকারি অনুষ্ঠানে গান গাইতে অস্বীকার করায় তাঁর গান দীর্ঘদিন সরকারি বেতার ও দূরদর্শনে সম্প্রচার বন্ধ রাখা হয়েছিল। জনপ্রিয়তার চেয়ে নিজের সিদ্ধান্তকে বড় করে দেখার সাহস খুব কম শিল্পীরই থাকে।
আজ মনে হয়, একজন আমাদের শিখিয়েছেন শব্দের সাধনা, আর অন্যজন শিখিয়েছেন স্বাধীন আত্মার সুর।
শ্রদ্ধা, প্রণাম ও কৃতজ্ঞতা—বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র এবং কিশোর কুমারকে। জন্মদিনে তাঁদের স্মরণ মানে শুধু দুই শিল্পীকে নয়, শিল্পের মর্যাদাকেও প্রণাম জানানো।।
