কঙ্ক ঘোষ দস্তিদার : কলকাতা, ৩১ জুলাই, ২০২৬। আগামী বছর আফ্রিকায় বসতে চলেছে আইসিসি পুরুষদের একদিনের ক্রিকেট বিশ্বকাপের আসর। চব্বিশ বছর পর আবারও আফ্রিকার মাটিতে বিশ্বমঞ্চ। তবে একক কোনও দেশ নয়, দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবোয়ে এবং নামিবিয়া এই তিন দেশ যৌথভাবে আয়োজন করবে ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ। বিশ্বকাপকে ঘিরে ইতিমধ্যেই উৎসাহ তুঙ্গে। এবার আইসিসির ঘোষণা, কোন কোন মাঠে বসবে ক্রিকেটের এই মহারণ।
মোট ১২টি স্টেডিয়ামে হবে বিশ্বকাপের ম্যাচ। সবচেয়ে বেশি, অর্থাৎ আটটি স্টেডিয়াম দক্ষিণ আফ্রিকায়। জিম্বাবোয়েতে তিনটি এবং নামিবিয়ায় একটি মাঠে হবে বিশ্বকাপের লড়াই। আগামী ৪ অক্টোবর শুরু হবে এই বিশ্বকাপ। দীর্ঘ দেড় মাসের এই ক্রিকেট উৎসবের পর্দা নামবে ২১ নভেম্বর। সব মিলিয়ে ৫৪টি ম্যাচ। তার মধ্যে ৪১টি ম্যাচ আয়োজন করবে দক্ষিণ আফ্রিকা। জিম্বাবোয়ের ঝুলিতে ৮ থেকে ১০টি ম্যাচ, আর নামিবিয়ায় হবে তিনটি ম্যাচ।
তিন দেশের এই যৌথ আয়োজনের জন্য একটি বিশেষ থিমও বেছে নেওয়া হয়েছে—‘থ্রি নেশন্স, ওয়ান হার্টবিট’, অর্থাৎ ‘তিন জাতি, এক হৃদস্পন্দন।’ এই বার্তার মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে আফ্রিকার আত্মা। বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরা হবে আফ্রিকার বহুল পরিচিত দর্শন ‘উবন্টু’। এই দর্শনের মূল কথা, ‘আমরা আছি বলেই আমি আছি।’ অর্থাৎ মানুষ একা নয়, সমাজের সঙ্গে, অন্য মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক, সহানুভূতি, ভালোবাসা, দয়া এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মধ্য দিয়েই তার পরিচয়। এই বিশ্বকাপ শুধু ক্রিকেটের প্রতিযোগিতা নয়, বরং একসঙ্গে চলার, একে অপরকে আপন করে নেওয়ার এবং মানবিক মূল্যবোধকে আরও বড় করে দেখার এক অনন্য বার্তাও বহন করবে।
বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো হবে দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গের ঐতিহ্যবাহী ওয়ান্ডারার্স স্টেডিয়াম, সেঞ্চুরিয়ন, কেপ টাউন, ডারবান, কেবেরহা, ব্লোমফন্টেন, পার্লের বোল্যান্ড পার্ক এবং ইস্ট লন্ডনের বাফেলো পার্কে। জোহানেসবার্গের ওয়ান্ডারার্স স্টেডিয়ামে ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীদের অনেক স্মৃতি। ২০০৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনালে এই মাঠেই অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয় ভারতের।
অন্যদিকে, জিম্বাবোয়ের হারারে স্পোর্টস ক্লাব, বুলাওয়ে এবং ফালে মোসি-ও-তুনিয়া স্টেডিয়ামেও বিশ্বকাপের ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। নামিবিয়ার রাজধানী উইন্ডহোকের স্টেডিয়ামেও বসবে বিশ্বকাপের আসর। তবে কোন স্টেডিয়ামে সেমিফাইনাল এবং ফাইনাল হবে, তা এখনও ঘোষণা করেনি আইসিসি। সেই সিদ্ধান্ত পরে জানানো হবে।
স্টেডিয়ামের তালিকা প্রকাশ করে আইসিসির সভাপতি জয় শাহ বলেন, “স্টেডিয়ামের নাম ঘোষণার মধ্যে দিয়ে বিশ্বের অন্যতম সেরা ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হল। আমরা আশাবাদী, ২০২৭ সালে এই তিন দেশ মিলেই একটি স্মরণীয় এবং সফল বিশ্বকাপ আয়োজন করবে।”
এবারের বিশ্বকাপের আর একটি বড় আকর্ষণ নতুন ফরম্যাট। ২০২৩ সালের বিশ্বকাপের ফরম্যাট থেকে সরে এসে আইসিসি ফিরিয়ে আনছে ২০০৩ সালের বিশ্বকাপের আদলে প্রতিযোগিতার কাঠামো। এবার মোট ১৪টি দল অংশ নেবে।
দলগুলিকে দুটি গ্রুপে ভাগ করা হবে এবং প্রতিটি গ্রুপে থাকবে সাতটি করে দল। দুই গ্রুপের শীর্ষ তিনটি করে মোট ছয়টি দল ‘সুপার সিক্স’ পর্বে। সেখানে গ্রুপ পর্বের নির্দিষ্ট পয়েন্ট বহন করে নতুন করে লড়াই। সুপার সিক্স শেষে পয়েন্ট তালিকার প্রথম চারটি দল সেমিফাইনালে খেলবে। সেই নকআউট পর্ব পেরিয়ে ২১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে মহাফাইনাল।
চব্বিশ বছর পর আবার আফ্রিকার আকাশে উড়বে বিশ্বকাপের পতাকা। তিন দেশের যৌথ আয়োজন, নতুন ফরম্যাট, ঐতিহ্যবাহী স্টেডিয়াম, আফ্রিকার মানবিক দর্শন ‘উবন্টু’ এবং বিশ্বের সেরা দলগুলির লড়াই ! সব মিলিয়ে ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ, ক্রিকেটের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় লিখতে চলেছে, তা কি বলা যায় ?
