নিতাই মালাকার : বীরভূম, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬। বীরভূম জেলার বৈদ্যনাথপুর গ্রামের ধরম মণ্ডলের কন্যা সমাপ্তি মণ্ডল আজ সাহস, আত্মসম্মান ও শিক্ষার প্রতি অটল নিষ্ঠার এক উজ্জ্বল প্রতীক। কন্যাশ্রী প্রকল্প-এর উপভোক্তা এবং মুক্তিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী সমাপ্তি আর্থিকভাবে অনগ্রসর পরিবারে বেড়ে উঠলেও নিজের স্বপ্নকে বিসর্জন দিতে রাজি হননি। পরিবার যখন অল্পবয়সে তাঁর বিবাহের ব্যবস্থা করে, তখন সমাপ্তি দৃঢ়ভাবে সেই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন—শিক্ষাই তাঁর অগ্রাধিকার, স্বনির্ভর ভবিষ্যৎই তাঁর লক্ষ্য। অসাধারণ উপস্থিত বুদ্ধির পরিচয় দিয়ে প্রথমে তিনি রাজনগর উন্নয়ন ব্লকের বিডিও-র কাছে বিষয়টি জানান। যদিও তাঁর বাড়ি দুবরাজপুর উন্নয়ন ব্লকের অন্তর্গত, প্রশাসনের সক্রিয় উদ্যোগে দ্রুত দুবরাজপুরের সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিকের কাছে বিষয়টি পৌঁছে যায়।
দুবরাজপুরের বিডিও অবিলম্বে সিডিপিও-কে তদন্তের নির্দেশ দেন। নির্ধারিত বিবাহের দিন আইসিডিএস সুপারভাইজার ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সময়োচিত হস্তক্ষেপের মাধ্যমে বাল্যবিবাহটি প্রতিরোধ করেন। প্রশাসনের এই তৎপর পদক্ষেপে রক্ষা পায় এক কিশোরীর জীবন, অধিকার ও ভবিষ্যৎ।
সমাপ্তির এই সাহসী অবস্থান প্রমাণ করে—শিক্ষা শুধু বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ নয়, তা আত্মবিশ্বাস ও অধিকার সচেতনতার শক্তিও জোগায়। সামাজিক প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করে নিজের ভবিষ্যতের পক্ষে দাঁড়ানোর তাঁর সিদ্ধান্ত আজ বীরভূম জেলার অসংখ্য কিশোরীর কাছে অনুপ্রেরণার উৎস। তাঁর এই প্রশংসনীয় উদ্যোগের স্বীকৃতিস্বরূপ বীরভূমের জেলা শাসক ধবল জৈন, দুবরাজপুরের বিডিও ও অন্যান্য প্রশাসনিক আধিকারিকরা সমাপ্তি মণ্ডলকে সম্মাননাপত্র প্রদান করেন। মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর পক্ষ থেকে তাঁকে একটি কম্পিউটার উপহার দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাঁর পড়াশোনা ও টিউশন ফি প্রশাসনের পক্ষ থেকে বহনের অঙ্গীকার করা হয়েছে।
সমাপ্তির পাশে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার এবং সমগ্র বীরভূম জেলা প্রশাসন।
সমাপ্তি মণ্ডলের এই লড়াই কেবল একটি বিয়ে বন্ধ করার ঘটনা নয়—এটি স্বনির্ভরতা, অধিকার সচেতনতা এবং নারীশক্তির জাগরণের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।


