প্রিয়রঞ্জন কাঁড়ার: কলকাতা, ৬ এপ্রিল, ২০২৬। টলিউডের ‘অমানবিকতা’ দেখে যাঁরা খুব অবাক হচ্ছেন, তাঁদের একটা গল্প শোনাই। তখনও স্মার্টফোনের যুগ শুরু হয়নি। ইটিভি বাংলা, স্টার জলসা, আলফা বাংলা এরা সবে গজিয়ে উঠেছে। সেই সময় এক একটা মেগাসিরিয়াল ৪-৫ বছর ধরে চলতো এবং কলাকুশলীরা একবার একটা মেগায় সুযোগ পেলে দীর্ঘদিনের জন্য একটা আর্থিক নিরাপত্তা অনুভব করতেন। এমনই একটি মেগার পর্ব পরিচালক নিশ্চিন্ত মনে বিয়ে করলেন। বৌভাতের সন্ধ্যায় ইউনিটের সবাই আমন্ত্রিত হয়ে এলেন। প্রীতিভোজ শেষ হওয়ার পর মূল পরিচালক বরকে একটু আড়ালে ডেকে কানে কানে শুধু বলে গেলেন, “কাল থেকে একজন নতুন এপিসোড ডিরেক্টর আসবে, তুমি আর এসো না।” পরবর্তী তিন মাস ওই নববিবাহিত যুবক প্রতিদিন সকালে বাড়ি থেকে বেরিয়ে এক বন্ধুর অব্যবহৃত ফ্ল্যাটে সারাদিন কাটিয়ে রাতে বাড়ি ফিরতেন।
কারণ, মা-বাবা অথবা স্ত্রী কাউকেই সত্যটা বলার মতো মানসিক অবস্থায় তিনি ছিলেন না। বাড়ির ছেলে কাজে যাচ্ছে, এটাই সকলে জানতো। ঈশ্বরের পরম কৃপায় চতুর্থ মাসে একটি নতুন প্রোজেক্টে কাজ পেয়ে মাস খানেক কাজ করার পর বাড়িতে সম্পূর্ণ সত্য প্রকাশ করেন ওই যুবক। দয়া করে কেউ স্থান-কাল-পাত্র সম্পর্কে কিছু জানতে চাইবেন না। প্রসঙ্গত, সেদিনের সেই যুবক আজ কলকাতার থেকেও বড় মঞ্চে ব্যস্ত। বিনোদন, রাজনীতি এবং সাংবাদিকতার জগতে এগুলোই দস্তুর।


