Left to right – Dr. Murali Srinivasan, Chief of Medical Services, Manipal Health Enterprise Pvt. Ltd.; Dr. Surendra Kumar Dabas, Chairman, Manipal Comprehensive Cancer Centre and Onco Robotic Surgeries, North West Cluster; Dr. Sourav Datta, Director – Manipal Comprehensive Cancer Care (Mukundapur, Salt Lake & Siliguri Clusters); Smt. Ananya Banerjee, Councillor of Kolkata Municipal Corporation (Ward 109); Shri Firhad Hakim, Hon’ble Mayor, Kolkata Municipal Corporation; Shri Harinarayan Sharma, CEO, Manipal Foundation; Dr. Ayanabh Debgupta, Regional Director – East Region
নিজস্ব প্রতিনিধি : কলকাতা। ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬। বিশ্ব ক্যান্সার দিবস উপলক্ষে মণিপাল হসপিটালস কলকাতা তাদের অনকোলজি পরিষেবাকে আরও শক্তিশালী করল। এদিন আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হল মণিপাল কমপ্রিহেনসিভ ক্যান্সার কেয়ার সেন্টার, যার অন্তর্ভুক্ত অত্যাধুনিক ক্লিনিক্যাল হেমাটোলজি, হেমাটো-অনকোলজি ও বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট (BMT) ইউনিট। পাশাপাশি ক্যান্সার প্রতিরোধ ও প্রাথমিক শনাক্তকরণে গুরুত্ব দিয়ে মণিপাল ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এবং কলকাতা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (KMC)-এর সহযোগিতায় চালু করা হল ‘কবচ’—একটি কমিউনিটি হেলথ স্ক্রিনিং প্রোগ্রাম।
মণিপাল হাসপাতাল, ইএম বাইপাসে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শ্রী ফিরহাদ হাকিম, মাননীয় মেয়র, কলকাতা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন; শ্রী নারায়ণ স্বরূপ নিগম, আইএএস, প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি (স্বাস্থ্য); শ্রীমতি অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়, কাউন্সিলর, কেএমসি (ওয়ার্ড ১০৯); শ্রী হরিনারায়ণ শর্মা, সিইও, মণিপাল ফাউন্ডেশন; ডা. সুরেন্দ্র কুমার দাবাস, চেয়ারম্যান, মণিপাল কমপ্রিহেনসিভ ক্যান্সার সেন্টার ও অনকো রোবোটিক সার্জারিস, নর্থ ওয়েস্ট ক্লাস্টার; ডা. মুরলি শ্রীনিবাসন, চিফ অব মেডিক্যাল সার্ভিসেস, মণিপাল হেলথ এন্টারপ্রাইজ প্রাইভেট লিমিটেড; ডা. অয়ানাভ দেবগুপ্ত, রিজিওনাল ডিরেক্টর – ইস্ট রিজিয়ন; ডা. সৌরভ দত্ত, ডিরেক্টর – মণিপাল কমপ্রিহেনসিভ ক্যান্সার কেয়ার (মুকুন্দপুর, সল্টলেক ও শিলিগুড়ি ক্লাস্টার); এবং শ্রী কমল দাশোরা, ক্লাস্টার ডিরেক্টর – মুকুন্দপুর ক্লাস্টার।
নতুন কমপ্রিহেনসিভ ক্যান্সার কেয়ার সেন্টারের সূচনা পূর্ব ভারতের অনকোলজি পরিকাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাটতি পূরণ করবে। এই অঞ্চলে ক্যান্সারের প্রকোপ বাড়ছে, যার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে দেরিতে রোগ শনাক্ত হওয়া এবং সমন্বিত চিকিৎসা পরিষেবার সীমিত প্রাপ্যতা। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ (ICMR) ও আঞ্চলিক ক্যান্সার রেজিস্ট্রির তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা, বিহার এবং উত্তর-পূর্ব ভারত মিলিয়ে দেশের ক্যান্সার রোগীর একটি বড় অংশ এই অঞ্চলে। বিশেষত মাথা ও গলা, পরিপাকতন্ত্র, স্তন এবং রক্তজনিত ক্যান্সারের প্রকোপ এখানে বেশি। প্রায় ৬০ শতাংশ ক্যান্সার রোগীই রোগের অগ্রসর পর্যায়ে শনাক্ত হন, যার ফলে চিকিৎসা জটিল হয় এবং ফলাফল তুলনামূলকভাবে কম আশাব্যঞ্জক হয়। এই সেন্টারটি এক ছাদের নীচে প্রতিরোধ, স্ক্রিনিং, প্রাথমিক শনাক্তকরণ, মেডিক্যাল ও সার্জিক্যাল অনকোলজি, রেডিয়েশন অনকোলজি, হেমাটোলজি, বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট, সহায়ক চিকিৎসা ও সারভাইভারশিপ পরিষেবা প্রদানের লক্ষ্যে গড়ে তোলা হয়েছে—একটি সমন্বিত মাল্টিডিসিপ্লিনারি মডেলের মাধ্যমে।
লিউকেমিয়া, লিম্ফোমা ও মাল্টিপল মাইলোমার মতো হেমাটো-অনকোলজিক রোগগুলি ভারতের মোট ক্যান্সার রোগের প্রায় ৭–৮ শতাংশ জুড়ে রয়েছে। ICMR-এর তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর দেশে এক লক্ষেরও বেশি নতুন রক্তজনিত ক্যান্সার রোগী শনাক্ত হন। এই ধরনের অনেক রোগের ক্ষেত্রে বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট একটি সম্ভাব্য নিরাময়মূলক চিকিৎসা হলেও, বড় শহরের বাইরে এখনও এই পরিষেবার প্রাপ্যতা সীমিত। ইন্ডিয়ান সোসাইটি অব ব্লাড অ্যান্ড ম্যারো ট্রান্সপ্লান্টেশন (ISBMT)-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশে এখনও পর্যন্ত মোট ২৫,০০০-এরও বেশি স্টেম সেল ট্রান্সপ্লান্ট সম্পন্ন হয়েছে, কিন্তু বছরে মাত্র ৩,০০০-এর কম ট্রান্সপ্লান্ট করা সম্ভব হচ্ছে, যা প্রকৃত চাহিদার তুলনায় অনেক কম। এই প্রেক্ষাপটে অধ্যাপক (ডা.) রাজীব দে-র নেতৃত্বে মণিপাল হসপিটালস কলকাতার বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট ইউনিট পূর্ব ভারতের রোগীদের জন্য বিশেষায়িত ও জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসার সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াবে।
এ প্রসঙ্গে ডা. সৌরভ দত্ত, ডিরেক্টর – মণিপাল কমপ্রিহেনসিভ ক্যান্সার কেয়ার (মুকুন্দপুর, সল্টলেক ও শিলিগুড়ি ক্লাস্টার), বলেন, “মণিপাল কমপ্রিহেনসিভ ক্যান্সার কেয়ার সেন্টারের সূচনা পূর্ব ভারতের অনকোলজি কেয়ার ব্যবস্থাকে আরও সুদৃঢ় করার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। অভিজ্ঞ ও নিবেদিতপ্রাণ অনকোলজিস্টদের দল নিয়ে আমরা প্রতিরোধ, সচেতনতা, প্রাথমিক শনাক্তকরণ, উন্নত ডায়াগনস্টিক, মেডিক্যাল ও সার্জিক্যাল অনকোলজি, রেডিয়েশন থেরাপি, হেমাটোলজি এবং বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট—সমগ্র ক্যান্সার চিকিৎসাকে একটি সমন্বিত কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসছি। হেমাটোলজিক ক্যান্সারের ক্ষেত্রে সঠিকভাবে নির্বাচিত রোগীদের মধ্যে বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্টের মাধ্যমে প্রায় ৬০–৮০ শতাংশ দীর্ঘমেয়াদি বেঁচে থাকার সম্ভাবনা তৈরি হয়। এই ধরনের উন্নত চিকিৎসা বাড়ির কাছেই পাওয়া গেলে রোগী ও তাঁদের পরিবারের শারীরিক, মানসিক ও আর্থিক চাপ অনেকটাই কমে, পাশাপাশি রোগ নির্ণয় থেকে চিকিৎসা ও সারভাইভারশিপ পর্যন্ত ধারাবাহিক যত্ন নিশ্চিত করা যায়।”
উন্নত ক্লিনিক্যাল পরিষেবার পাশাপাশি ‘কবচ’ কমিউনিটি হেলথ স্ক্রিনিং প্রোগ্রাম ক্যান্সার সম্পর্কে সচেতনতা, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণ এবং প্রতিরোধমূলক স্ক্রিনিংয়ের গুরুত্বকে তুলে ধরছে—বিশেষ করে সমাজের পিছিয়ে পড়া ও পরিষেবা-বঞ্চিত অংশের মানুষের মধ্যে।
এই উদ্যোগগুলির মাধ্যমে মণিপাল হসপিটালস কলকাতা ক্যান্সার চিকিৎসায় উৎকর্ষ সাধনের পাশাপাশি সমাজের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থেকে প্রতিরোধ, প্রাথমিক শনাক্তকরণ এবং সমন্বিত, রোগীকেন্দ্রিক চিকিৎসার মাধ্যমে ক্যান্সারের বোঝা কমানোর প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করল।


